অনলাইন মিটিংয়ের দুনিয়ায় এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘এআই ডিপফেক’। ২০২৪ সালের শুরুতে হংকংয়ের একটি বহুজাতিক কোম্পানির একজন কর্মী ভিডিও কনফারেন্সে তার কোম্পানির ‘চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার’ (CFO)-কে দেখে বিভ্রান্ত হয়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। পর্দার ওপাশে থাকা ব্যক্তিটি আসলে ছিলেন একজন প্রতারক, যিনি নিখুঁত ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বসের চেহারা ও কণ্ঠ নকল করেছিলেন।
ঠিক এই ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতি রুখতে Pindrop নিয়ে এসেছে তাদের যুগান্তকারী সমাধান ‘পিনড্রপ পালস ফর মিটিংস’। এই অভাবনীয় উদ্ভাবনের জন্য টাইম ম্যাগাজিন এটিকে ‘The Best Inventions of 2025’ তালিকায় স্থান দিয়েছে।
ভয়েস অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রতারণা প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
এটি প্রায় ৯৯% নিখুঁতভাবে সিন্থেটিক অডিও বা ডিপফেক শনাক্ত করতে পারে। কথা শুরু হওয়ার মাত্র ২ সেকেন্ডের মধ্যে এটি আসল না কি নকল (ডিপফেক), তা যাচাই করতে সক্ষম। ভিডিও বা অডিও কলে যুক্ত ব্যক্তিটি আসলেই সঠিক ব্যক্তি কি না, তা নিশ্চিত করে এটি পরিচয় জালিয়াতি রোধ করে।
বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের ভার্চুয়াল মিটিংয়ের নিরাপত্তা বাড়াতে এই টুলটি ব্যবহার করছে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি জুম (Zoom), মাইক্রোসফট টিমস (Microsoft Teams) এবং সিসকো ওয়েবেক্স-এর (Webex by Cisco) মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ।মূলত অনলাইন ইন্টারভিউ ও ব্যবসায়িক মিটিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

Post a Comment